স্তনে ব্যথা গর্ভবতী নারীদের অন্যতম একটি সমস্যা। এটি সমস্যা হলেও, একি সাথে এটি ইঙ্গিত করে আপনার গর্ভাবস্থা ঠিক গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। স্তনের ব্যথায় ভুগে না এমন গর্ভবতী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। স্তনের এই ব্যথা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও, কিছু উপায় আমরা জানাবো যাতে আপনি আগের থেকে ভালো অনুভব করবেন। তাই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখতে ভুলবেন না।

সঠিক মাপের অন্তর্বাস (ব্রা)

আপনি হয়তো একই সাইজের অন্তর্বাস(ব্রা) দীর্ঘদিন ধরে পরিধান করছেন। কিন্তু গর্ভধারনের পর আপনার এমনটা করলে চলবে না। কেননা একটু একটু করে আপনার স্তনের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত বাচ্চার জন্য দুগ্ধ তৈরীর জন্য এমনটা হচ্ছে। তাই সময় ব্যবধানে সাইজ অনুসারে অন্তর্বাস আপনাকে পাল্টাতে হবে।

অহেতুক স্পর্শ না করা

যেহেতু এসময় স্তনের স্পর্শকাতরা বৃদ্ধি পায়, হালকা একটু স্পর্শেও আপনি ব্যথা পেতে পারেন। তাই চেষ্টা করুন অহেতুক স্তনে স্পর্শ না করতে। আপনার স্বামী হয়তো আপনার স্তনে স্পর্শ করতে চাইতে পারে, তাকে আপনার সমস্যার কথা বলুন। শুধু গর্ভবতী নারীই নয়, স্বামীকেও এসময় অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়, এটা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান

ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাকই গর্ভবতীর জন্য আদর্শ। স্তন ছাড়াও এসময় শারীরিকভাবে আপনার অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। পুরনো পোশাকগুলো এখন আপনার কাছে টাইট টাইট লাগতে পারে। পোশাকের ঘর্ষনেও আপনি স্তনে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। তাই চেষ্টা করুন ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতে।

ঠান্ডার কম্প্রেস

আপনার স্তন ঠান্ডা টাওয়াল দিয়ে কিছুক্ষন ঢেকে রাখুন, এতে হয়তো ব্যথা কিছু কমতে পারে। এছাড়া আইসব্যাগ বা কাপড় দিয়ে বরফ বেধে ব্যথা স্থানে হালকা মাসাজ করুন। এতেও অনেক উপকার পেতে পারেন।

উষ্ণ পানিতে গোসল

ঠান্ডা মাসাজে হয়তো অনেক গর্ভবতী উপকৃত হতে নাও পারেন। এক্ষেত্রে গোসলের সময় হালকা উষ্ণ পানি ব্যবহার করতে পারেন, এটা আপনার স্তন ব্যথা কমাতে অনেকটা সাহায্য করবে, এমনটাই পরিসংখ্যানে পাওয়া যায়। অনেক গর্ভবতী নারীই বলেছেন, উষ্ণ পানিতে গোসল তাদের স্তন ব্যথা হ্রাসে সাহায্য করেছে।

প্রচুর পানি পান

পানি পান করলে স্তনের ব্যথা কমে যেতে পারে, শুনে হয়তো অবাক লাগছে। পর্যাপ্ত পানি পান আপনার শরীরে হরমোনাল ব্যালেন্স ঠিক থাকতে সহায়তা করে। তাই আপনাকে নিয়মিত প্রচুর পানি করতে হবে এসময়ে। শুধু পানি নয়, বেশি বেশি তরল পান করার চেষ্টা করুন, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক জুস।

লবন কম খাওয়া

আয়োডিনের অভাব পূরনে আমাদের অবশ্যই লবন খেতে হবে, তবে বেশি পরিমানে নয়। তাই এটা নিশ্চিত করুন, আপনার খাবারে লবনের পরিমানটা যেন কম থাকে। সেই সাথে কাঁচা লবন খাওয়া একেবারে বাদ দিন।

সর্বোপরি আলোচিত পদ্ধতি প্রয়োগের পরও যদি আপনি উপকৃত না হন এবং আপনার স্তনের ব্যথা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তাহলে ডাক্তার দেখানোই আপনার জন্য জুরুরি। তিনি হয়তো চেক করে দেখবেন, এর পিছনের অন্য কোনো কারন আছে কিনা।

মনে রাখবেন, গর্ভবতী নারীদের স্তনে ব্যথা হওয়াটাই স্বাভাবিক। বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে পিরিয়ডের সময় পর্যন্ত আপনি হালকা স্তনের ব্যথা ভুগেছেন। এর মানে এটা কোনো রোগ নয়, শারীরিক চলমান প্রক্রিয়ারই অংশ। সেরকমই গর্ভকালীন এই হালকা স্তনের ব্যথা মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি, ভালো থাকবেন।