গর্ভধারণের পর থেকে একজন নারী অসংখ্য শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। হাত-পা ব্যথা, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, পিঠ ব্যথা, কোমর ব্যথা, কাধ ব্যথাসহ হাজারো ব্যথার সাথে যোগ হয় নাভী ব্যথা। এসময়ে নাভী ব্যথা কেন হয়, ব্যথা উপশমে আপনি কি করতে পারেন এবং কখন ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে এসকল বিষয় নিয়েই আজকের আর্টিকেলটি। মনোযোগ সহকারে পড়লে আশাকরি উপকৃত হবেন।

প্রতিটা মাসেই গর্ভবতীর দেহ একটু একটু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কিছু গর্ভবতী নারী একেবারেই নাভীর ব্যথায় ভুগেন না, আবার অনেকে মারাত্মক ব্যথায় কাহিল হয়ে পড়েন। যদি নাভী ব্যথা আপনারও হয়ে থাকে, প্রথমে বলি রাখি এটি একটি সাধারণ সমস্যা। যখন থেকে আপনার পেট বড় হতে শুরু করবে, তখন থেকে এই ব্যথাটা শুরু হতে পারে। বিশেষ করে ২য় ও ৩য় ট্রাইমেস্টারে।

নাভী ব্যথার কারন

গর্ভকালীন নাভী ব্যথা নির্ভর করে একজন নারীর শারীরিক আকৃতি, তার চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা, পেটে ধারণ করা বাচ্চার উপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যথাটা বিপদজনক নয়। সময়ের সাথে ব্যথা নিজে নিজে সেরে যায়। সাধারণত সন্তান প্রসবের পর।

নাভী ব্যথার জন্য দায়ী কিছু বিষয়

গর্ভাবস্থার শেষেরদিকে আপনার পেটের চামড়া, মাংসপেশি সর্বোচ্চ পরিমানে টান টান অবস্থায় থাকে। এতে করে পেটে ফাটা দাগ, চুলকানি, ব্যথার উদ্ভব ঘটে। আর আপনার পুরো পেটটার মধ্যখানেই নাভীর অবস্থান। এসকল বৃদ্ধি, চামড়ার স্থানান্তর আপনার নাভীকে প্রভাবিত করে এবং আপনি ব্যথা পেয়ে থাকেন।

জরায়ুর চাপ

প্রথম ট্রাইমেস্টারে জরায়ু তূলনামূলক ছোট থাকে এবং তখনও শ্রোনিচক্র পর্যন্ত পৌছায় না। ঠিক যখন থেকে জরায়ু বাড়তে শুরু করে, তখন বর্ধিত জরায়ুর চাপ গিয়ে পড়ে পেটে এবং নাভীতে। তৃতীয় ট্রাইমেস্টারের মধ্যে জরায়ু এমনিওটিক ফ্লুইড, বাচ্চা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহ সামনের দিকে ক্রমশ চাপ দেয়, এই চাপের কিছুটা অংশ নাভীর উপরও পড়ে।

করণীয়

প্রথমেই, মাথায় রাখুন গর্ভকালীন সময়ে নাভী ব্যথা পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়। এটি একটি অস্থায়ী সমস্যা এবং সন্তান প্রসবের পরপরই চলে যাবে। তবে আপনি চেষ্টা করুন আপনার পেটে যেন অহেতুক চাপ বৃদ্ধি না পায়। বিশেষ করে ঘুমানোর সময়, পেটের নিচে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে কিছুটা চাপ কমবে।

বাজারে বর্তমানে অনেক মাতৃত্বকালীন বেল্ট কিনতে পাওয়া যায়। এই বেল্টগুলো আপনার পেটকে অনেকটা চাপমুক্ত রাখবে। আর চাপ কমজনিত কারনে আপনার নাভীর ব্যথা আগের থেকে কমে আসবে। এছাড়া নাভীতে চুলকানি বা ব্যথা নিরাময়ে অনেক ভালো মানের লোশনও পাওয়া যায় ব্যবহার করতে পারেন।

মনে রাখবেন, পুরো গর্ভাবস্থায় নাভীতে হালকা ব্যথা থাকতেই পারে, এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এই ব্যথা যদি অসহনীয় পর্যায়ের মনে হয়, তাহলে শীঘ্রই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। অতিরিক্ত নাভী ব্যথা অন্য কোনো উপসর্গের লক্ষণও হতে পারে, তাই খেয়াল রাখুন। আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন।