গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা পানি পান করা যাবে কিনা, এ নিয়ে ইদানিং অনেক কমেন্ট পাচ্ছি আমরা। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সমাজেও বহু ধ্যান-ধারনা প্রচলিত রয়েছে। একের জনের থেকে ভিন্ন মতামত পেয়ে গর্ভবতী নারীরা হয়ে যাচ্ছেন কনফিউজড্। গর্ভবতী নারীদের ঠান্ডা পানি পান করা আদৌ উচিত কিনা বা এতে বাচ্চার কোনো ক্ষতি হবে কিনা, এসকল বিষয়ে জানবো আজকের আর্টিকেলে। আশাকরি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।

বহু বছর ধরে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে প্রচলিত আছে যে, ঠান্ডা পানি পান করলে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। কথাটি কি সত্যি? বাস্তবতা হলো, এ যাবত যত গবেষনা হয়েছে, তাতে কোথাও পাওয়া যায়নি, গর্ভবতী ঠান্ডা পানি পান করলে বাচ্চার ঠান্ডা লাগে।

গর্ভাবস্থায় একজনকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হয়। এক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা ততটা ফ্যাক্ট করে না। এর মানে আপনি অনেক গরম পানি পান করবেন, তা কিন্তু নয়। বা অনেক ঠান্ডা পানি পান করবেন, সেটাও নয়। গরমে চাইলে ঠান্ডা পানি পান করতে পারেন, আবার শীতে হালকা উষ্ণ পানি।

ঠান্ডা পানি পানে যদি আপনার সর্দি-কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, তাহলে অবশ্যই এড়িয়ে চলুন। কিন্তু গর্ভের বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যাবে, এটা ভেবে ঠান্ডা পানি পান করবেন না, এটা ভুল ধারনা। তাই শীতেও আপনি ঠান্ডা পানি পান করতে পারেন।

অনেকে বিশ্বাস করেন, গর্ভাবস্থায় অত্যধিক ঠান্ডা পানি পান করলে, গর্ভের বাচ্চার পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা অন্যান্য ফুসফুসজনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সত্যি হলো, এই বিশ্বাসগুলো পুরোটাই ভিত্তিহীন, যা মানুষের চিন্তা-ধারা মাত্র।

আপনি যা খাবার খান বা পানি পান করেন সেটা সরাসরি বাচ্চার কাছে পৌছায় না। আপনার দেহের বিভিন্ন স্তর পার করে আম্বিলিকাল কর্ডের মাধ্যমে বাচ্চাতে পৌছায়। তাছাড়া আপনার চারপাশের পরিবেশ ঠান্ডা থাকলেও, দেহের অভ্যন্তর ভাগ কিছুটা উষ্ণ থাকে। তাই ঠান্ডা পানি যখন বিভিন্ন নালীর মধ্য দিয়ে গর্ভের বাচ্চাতে পৌছায়, তখন সেই পানিটা আর ঠান্ডা থাকে না। তার মানে বাচ্চার কাছে সবসময় উষ্ণ পানিই পৌছায়।

সর্বোপরি, এটাই বলতে চাই গর্ভবতী ঠান্ডা পানি পান করলে বাচ্চার ঠান্ডা লাগেনা বা বাচ্চার অন্য কোনো ক্ষতি হয় না। তবে যারা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় প্রতিনিয়ত ভুগেন, তারা সতর্ক থাকুন। কারন গর্ভবতী মা অসুস্থ থাকলে, বাচ্চার উপরও কিছু না কিছু প্রভাব পড়েই। ভালো থাকুন।